Header Ads

Header ADS

নার্সকে অব্যাহতি, ডাক্তারকে নয় কেন?



আশরাফ আলী:

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের বিরোদ্ধে কিছুদিন পর পর অভিযোগ উঠে রোগীদের চিকিৎসা না দেবার। এই একটি অভিযোগ কেন আসছে? আসলে এই ঘটনার পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করে। তবে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রায়ই একটা অভিযোগ পাওয়া যায় কর্তব্যরত অবস্থায় বেশিরভাগ সময় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। 

হাসপাতালের গুটিকয়েক ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রায়ই ছোটখাটো অভিযোগ আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। সমালোচনার ঝড় ওঠা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ এখানে তুলে ধরছি। ২৯ মার্চ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সের বিরুদ্ধে অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। তাদের অবহেলায় শিশুটি মারা যাওয়ায় ঐ শিশুর আত্মীয় স্বজনসহ এলাকাবাসী হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে। ঐদিন রাতে দায়িত্বরত নার্সকে সাময়িক অব্যাহতি দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে এ ঘটনায় কর্তব্যরত ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পারি।

এরকম আরেকটি ঘটনা চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে। নিধি রানী নামের একটি শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ উঠে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপরে। এঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে সমালোচনার ঝড় উঠে। উপজেলার হোছন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেশ রুদ্র পালের ভাতিজি নিধি রানী পালের উপর ফুটন্ত পানি শরীরে পড়ে পীট ও হাটুর কিছু অংশ পুঁড়ে যায়। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কোন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করেননি বলে অভিযোগ উঠে। পরে ঐ ভূক্তভোগী বেসরকারি একটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এরকম ঘটনা নিয়মিত চলছেই।

এই হাসপাতালে আমার সাথে ঘটা একটি ঘটনা বলি। দিনক্ষণ এই মুহূর্তে মনে নেই। হাসপাতালের পাশেই আমার বাড়ি থাকায় রাত ৮টার দিকে শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি কর্তব্যরত ডাক্তার মোবাইল টিপা এবং কয়েকটি ঔষধ কোম্পানির লোকদের নিয়ে গল্প গুজবে ব্যস্ত। আমি সমস্যার কথা বলার পরও ডাক্তার গল্পতেই মজে আছেন। একটু অপেক্ষা করে ডাক্তারকে একটু জোর দিয়ে বললাম আমি আপনাদের গল্প শুনতে আসিনি। তখন ডাক্তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার দিকে তাকালেন। তারপর আমি যখন একটু কথা বলা শুরু করলাম ডাক্তার তখন লাইনে এলেন। আমাকে দেখে ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র দিলেন। তবে সেটার জন্য ডাক্তারকে কিছু কথা শুনাতে হয়েছে আমাকে।

আরও পড়ুন: গ্রাম্য সালিশ ও মোড়লীপনা

আরেকটি ঘটনা, একদিন সংবাদের কাজে হাসপাতালে যাই। একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে হাসপাতালের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহের সাথে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করে কথা বলতে চাইলাম। তিনি আমার সাথে তো কথা বলা দূরে থাক নূন্যতম সৌজন্যতাবোধ দেখালেন না। ঐ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন না। অনেক সময় ওনার সহকারী কল রিসিভ করে বলেন স্যার রোগী দেখছেন। সংবাদের জন্য এখন পর্যন্ত ওনার কোন বক্তব্য পাইনি।

আর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয়জ্যোতি ঘোষের মোবাইলে যদি একবার কল ঢুকে রিসিভ করা তো দূরে থাক পরবর্তী কলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই হচ্ছে ওনাদের অবস্থা। ওনারা মনে হয় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

আমরা হাসপাতালে যাই চিকিৎসা সেবা পাবার জন্য। এটি মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মধ্যে একটি। আর পাঁচটি অধিকারের কোনটি মানুষ না পেলে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়। এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে।

কিন্তু আসলেই কি মানুষ হাসপাতালে গিয়ে তার মৌলিক অধিকারটি পাচ্ছেন? সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া এখন স্বপ্নের মতো হয়ে যাচ্ছে মুষ্টিমেয় কিছু ডাক্তারের কারণে। রোগীরা ভরসা করতে পারছেনা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাবেন কিনা? সেই প্রশ্নটি তো থেকেই যায়?

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.