Header Ads

Header ADS

তিন প্রকার আলেম

 

তিন প্রকার আলেম
আশরাফ আলী:

আলেমদের নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। কিন্তু কেন আলেমদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এটা শুধু বর্তমান সময়ে নয়, সকল সময়ে হয়ে আসছে। তার কারণ কি? এটা নিয়ে আলেমগণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 

☑️তিন প্রকার আলেম রয়েছেন। আসুন জেনে নিই এই তিন প্রকার আলেম সম্পর্কে

 

এক প্রকার আলেম তাদেরকে বলা হয় ওলামায়ে দাউলা বা রাষ্ট্রীয় আলেম। অথ্যাৎ রাষ্ট্র যেদিকে আছে তারাও সেদিকে আছে। রাষ্ট্রের যে মাযহাব, রাষ্ট্রের যে ধর্ম তাদেরও সেই মাযহাব এবং সেই ধর্ম।
আরেক প্রকার আলেম হলো ওলামায়ে উম্মত বা উম্মতের আলেম। উম্মতের আলেম মানে হলো- উম্মতের ঝোক যেদিকে, মানুষের ঝোক যেদিকে, মানুষ যা শুনতে চায়, যা মানতে চায় সে শুধু তাই বলে। আর যে জিনিষগুলো মানুষ অপছন্দ করে, মানুষের কাছে একটু খারাপ লাগে, সেগুলোকে এড়িয়ে যায়।


আর তিন নাম্বার আলেম হলো ওলামায়ে মিল্লাত বা ধর্মের আলেম। যারা ধর্মের কথা বলে, উম্মতের কি ভালো লাগলো বা না লাগলো, রাষ্ট্র কি বললো না বললো, দেখার বিষয় না।
তো আলেমদের তিন শ্রেণী। ওলামায়ে মিল্লাত বা ধর্মের আলেম। ওলামায়ে উম্মত বা উম্মতের আলেম। ওলামায়ে দাউলা বা রাষ্ট্রীয় আলেম।

মাদের জন্য অনুসরণীয় কোন আলেম? ওলামায়ে দাউলা বা রাষ্ট্রীয় আলেম? ওলামায়ে উম্মত বা উম্মতের আলেম? ওলামায়ে মিল্লাত বা ধর্মের আলেম?

আমাদের জন্য অনুসরণীয় হলো ওলামায়ে মিল্লাত বা ধর্মের আলেম। যারা ধর্মের ওপরে আছেন। যদিও পুরো উম্মত, সবাই তাকে অপছন্দ করুক না কেনো? যদিও রাষ্ট্র তার বিরোদ্ধে পরোয়ানা জারি করুক না কেনো?  এজন্য শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এর দিক থেকে একটা কথা সম্পৃক্ত আছে, তিনি বলেন: হকপন্থী আলেম যদি খুজতে চাও তিন জায়গায় খোজো। বাস্তবতা হয়ে গেছে এটা। একটা হলো কবরের নিচে। মানে মাটির নিচে গিয়ে খুজো হকপন্থী আলেম পাবে।


আর আরেকটা হলো: কারাগারে, জালিমের জিন্দান খানায়। উদাহরণস্বরুপ ইমাম আবু হানিফাকে খুজতে গেলে জেলখানায় যেতে হবে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলকে খুজতে গেলেও জেলখানায় যেতে হবে। চার ইমামকে খুজতে গেলে জেলাখানায় যেতে হবে। 


ভারত বর্ষে আসি: মুজাদ্দিদে আলফেসানি শাইখ আহমদ স্যার হিন্দকে খুজতে গেলে জেলাখানায় যেতে হবে। শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবিকে খুজতে গেলে জেলাখানায় যেতে হবে। দারুল উলুম দেওবন্দ এর প্রতিষ্ঠাতা ক্বাসিম নানতুবী রহ. কে খুজতে গেলে জেলাখানায় যেতে হবে। তো যুগে যুগে এটাই বাস্তবতা হয়ে গেছে। 


ইমাম বুখারীর মতো মানুষ দেশ থেকেই বের (বহিস্কার) করে দেয়া হয়েছে। এলাকা না শুধু এলাকা না, রাজবাড়ী থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, এটাও না। পুরো দেশ থেকেই ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হয়েছে। এটা এমন যে তোর মতো আলেম লাগবে না। এতো হক্ব কথা বলিস কেনো? যুগে যুগে এটাই হলো বাস্তবতা হয়ে দাড়িয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। 


আর তিন নাম্বার হলো জিহাদের ময়দানে। সেই যুগের হিসাবে। তাতারিদের সঙ্গে তখন যুদ্ধ চলছিলো। মুসলমানদের ওপর জিহাদ ফরজে আইন ছিলো। সেই সময় যে ফরজে আইন ছেড়ে অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকে। ফরজে আইনের ওপর যে নেই, সে আবার কিসের আলেম?

ইমাম তাইমিয়া বলেন: যদি হক্বপন্থী আলেম খুজো এক নাম্বার হলো কবরের নিচে। দুই নাম্বার হলো জালিমের জিন্দান খানায় জেলাখানায়। আর তিন নাম্বার হলো জিহাদের ময়দানে।

 

সূত্র: শাইখুল হাদীস ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.
         আলী হাসান উসামা


No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.